২৪ মে, ২০১৩

দেখা হয় নাই, চক্ষু মেলিয়া

দেখা হয় নাই, চক্ষু মেলিয়া-----
রংপুর তাজহাট জমিদার বাড়ি
tajhat
বাংলাদেশজুড়েই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য প্রাকৃতিক আর মনুষ্যনির্মিত দর্শনীয় স্থান।

অপূর্ব স্থাপত্যিক নিদর্শন আর সেই নিদর্শণের পরতে পরতে জড়িয়ে থাকা ইতিহাস যাদের ভালো লাগে তাদেরই জন্য দেখে আসার মতো চমত্কার একটি স্থান রংপুরের তাজহাট জমিদার বাড়ি। রংপুর শহর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে তাজহাট গ্রামে এর অবস্থান। রত্ন ব্যবসায়ী মান্নালালই ছিলেন তাজহাট জমিদারির প্রতিষ্ঠাতা। ব্যবসায়িক কারণে অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে তিনি রংপুরের মাহিগঞ্জে এসে বসবাস শুরু করেন এবং একটি ভবন নির্মাণ করেন। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে তার ভবনটি ধ্বংস হয়ে যায় এবং তিনি আহত হয়ে পরবর্তীতে মারা যান। তার দত্তক পুত্র গোপাল

লাল রায় বাহাদুর (মতান্তরে মহারাজা কুমার গোপাল রায়) জমিদারি দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান ভবনটির নির্মাণ শুরু করেন। জন্য দক্ষ নকশাকার ছাড়াও সবমিলিয়ে কাজ করেন প্রায় দুই হাজার রাজমিস্ত্রী। ১৯১৭ সালে ভবনটি সম্পূর্ণ হয় এবং সে সময়ের হিসেবে এতে খরচ হয় প্রায় দেড় কোটি টাকা। ইতালি থেকে আমদানিকৃত শ্বেত পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল বাড়ির সম্মুখের সিঁড়িটি। ছাড়া ভবনের প্রধান প্রধান অংশগুলো তৈরিতে ব্যবহার করা হয় লাল ইট, শ্বেত পাথর চুনা পাথর। পুরো ভবনটিতে রয়েছে ২৮টি কক্ষ। ভবনের সামনে মার্বেল পাথরের সুদৃশ্য একটি ফোয়ারা আজও বিদ্যমান। এছাড়া বাড়িটির চারদিকে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ শোভা বহন করা ফুলের বাগান এবং উত্তর দক্ষিণাংশে কামিনী, মেহগনি, কাঁঠাল আমবাগান। ঢাকার আহসান মঞ্জিলের মতো দেখতে এই জমিদার বাড়িটির তৃতীয় চতুর্থ তলায় রয়েছে রাজা গোপালের ব্যবহূত নানা জিনিস। ১৯৫২ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পরে বাড়ি চলে যায় কৃষি বিভাগের অধীনে এবং এখানে গড়ে ওঠে কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাড়ির প্রচুর মূল্যবান সম্পদ খোয়া যায়। ১৯৮৫ সালে এখানে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ চালু হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে তাজহাট জমিদার বাড়ি রূপান্তর করা হয় জাদুঘরে। আর এর নাম রংপুর জাদুঘর। জাদুঘরের তিনশটি মূল্যবান নিদর্শন রয়েছে। রংপুর জাদুঘরের গ্রীষ্মকালীন সময়সূচি (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) হলো বেলা ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। মাঝে দুপুর একটা থেকে ত্রিশ মিনিট মধ্যাহ্ন বিরতি আছে। আর শীতকালীন (অক্টোবর-মার্চ) সময়সূচি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা। ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতি। রবিবার পূর্ণ দিবস, সোমবার অর্ধ দিবসসহ সরকারি সব ছুটির দিনে জাদুঘরটি বন্ধ থাকে